বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের নবযাত্রা

দেশ বিদেশ

মিজানুর রহমান | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার
তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর করে গেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলেন তিনি। হাই প্রোফাইল ওই সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-কলম্বো ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। সফরকালে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এবং প্রধানমন্ত্রী তনয়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে তার। জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি। বঙ্গভবনের দরবার হলে তার সম্মানে দেয়া প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং সেখানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাও উপভোগ করেন।
তার বিদায়ের পর ৩৫ দফা যৌথ বিবৃতি প্রচার করেছে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে সফরের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। বিবৃতি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, লঙ্কান প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে ‘কার্যকর সম্পর্ক’ গড়ার বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে কমনওয়েলথভুক্ত দুই প্রতিবেশী দেশ। কাছাকাছি অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার শীর্ষ নেতৃত্ব সন্ত্রাস ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধ দমনে একযোগে কাজ করার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন। এ সফরে ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হলেও সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এবং বহুল আলোচিত উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সই হয়নি। তবে নাটকীয়ভাবে অগ্রগতি এসেছে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সইয়ের আলোচনায়। বাণিজ্যে বিভিন্ন বাধা দূরীকরণ এবং আগামী বাণিজ্য সম্পর্ক  জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ এফটিএ চুক্তিটি চলতি বছরের মধ্যেই স্বাক্ষরে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তিটি সই না হওয়ার আভাস অবশ্য ঢাকা আগেই পেয়েছিল। সফরের প্রাক-প্রস্তুতির আলোচনায় প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে তা বাতিল হয়ে যায়। ওই চুক্তিটি সইয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ঢাকা ও কলম্বো। যদিও দুই দেশেই এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তারপরও আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কেন এমনটি হলো জানতে চাইলে ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, কলম্বোর তরফেই শেষ মুহূর্তে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভবত তাদের প্রস্তুতি শেষ হয়নি। যেকোনো চুক্তিতে তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং বাধ্যতামূলক। সেটি তারা সম্পন্ন করতে পারেনি। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কার আইন মন্ত্রণালয় চুক্তিটি আটকে দিয়েছে কর্মকর্তার কথায় এটিই স্পষ্ট হয়। অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি সই হলে চট্টগ্রাম ও কলম্বোর মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হতো। ফলে পশ্চিমা বিশ্বে রপ্তানিতে সিঙ্গাপুরের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমে আসতো। সিঙ্গাপুর হয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যয় ও সময় অনেক বেশি। বাংলাদেশ মনে করে, শ্রীলঙ্কা যদি তাদের বন্দর ব্যবহারে চার্জ নেয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেয় তবে রপ্তানিতে বাংলাদেশ বেশ লাভবান হবে। ছাড়ের বিষয়টি চুক্তিতে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করে ঢাকা। পরবর্তী সময়ে এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত চুক্তি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) সই করার সময়েও শ্রীলঙ্কার বন্দর ব্যবহারে চার্জের হার উল্লেখ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যৌথ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার  প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের তাগিদ দিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আগামীর পথ চলার কিছু নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়- জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শ্রীলঙ্কাকে সমর্থন দেয়ার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি আগাম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময়  প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন সিরিসেনা। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৃশংসতার কথা উভয় নেতা স্মরণ করেন। ২৫শে মার্চ বাংলাদেশে গণহত্যা দিবস ঘোষণার বিষয়ে বাংলাদেশের পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ওই সময়ে নিষ্ঠুরতার বিষয়ে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত বলে উভয় নেতা মনে করেন। ২০১৮ সালে সহিষ্ণুতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজ নিয়ে কাজ করবে উভয় দেশ। বিবৃতিতে বস্ত্রখাত, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রভৃতি খাতে সহায়তার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক শ্রীলঙ্কার নাগরিক বসবাস করছেন। এটা বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থে উভয় দেশের জনগণকে চলাচলের সুবিধা দেয়া প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য শ্রীলঙ্কায় নিবন্ধন সহজ করতে আহ্বান জানানো হয়। বঙ্গোপসাগরে সহযোগিতার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়। উভয় নেতা সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ জনগণ পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী হন। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের মধ্যে একটি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনে উভয় নেতা একমত হন। বিমসটেক ও সার্কে একত্রে কাজ করতে চান উভয় নেতা। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ২০১৮ সালের কোনো এক সময়ে শ্রীলঙ্কা সফর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!

কেয়া চৌধুরী এমপি’র উপর হামলার ঘটনায় মামলা

বাংলাদেশের রাজনীতি, বিকাশমান মধ্যবিত্ত এবং কয়েকটি প্রশ্ন

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতাতে আহত ডিবি পুলিশ

প্রতিবেশীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা জরুরীঃ বাংলাদেশকে মিয়ানমার

তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করবে বিএনপি

রোহিঙ্গা শিবিরে যেতে চান প্রণব মূখার্জি

তালাকপ্রাপ্ত নারীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

আরো ১০ দিন বন্ধ থাকবে লেকহেড স্কুল

জাতিসংঘকে দিয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হবে নাঃ চীন

ম্যনইউয়ের টানা ৩৮

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংলাপে সহায়তা করতে আগ্রহী চীন

জল্পনার অবসান ঘটালেন জ্যোতি

চীনের বেইজিংয়ে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৯ আহত ৮

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর