সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী পরিচ্ছন্ন কর্মী মোকতার অস্বস্তিতে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার
সিঙ্গাপুরে অস্বস্তিতে আছেন বাংলাদেশী পরিচ্ছন্নকর্মী মোকতার। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজা করছেন অনেকে। কেউবা দেখা হলেই আজেবাজে কথা বলছে। এতে হতাশ মোকতার। এ খবর দিয়েছে সিঙ্গাপুরের অনলাইন দ্য স্ট্রেইটস টাইমস। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের গেলাং ইস্ট এভিনিউ-১ এর ব্লক ১২৩ এ একটি পোস্টার টানানো হয়। তাতে পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় মোকতারের দুটি ছবি। একটির নিচে তার নাম দিয়ে লেখা হয় ‘ক্লিনার’। অন্যটিতেও তার নামের নিচে লেখা হয় ‘ক্লিনিং সুপারভাইজার’। এতে অনেকের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়Ñ একজন মানুষ দুই রকম দায়িত্ব কিভাবে পালন করেন! ফলে অনেকেই ভাবতে থাকেন এই পোস্টার ভাওতাবাজি অথবা ¯্রফে মহা করতে করা হয়েছে। কিন্তু গত সপ্তাহে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে দ্য মেরিন প্যারেড টাউন কাউন্সিল (এমপিটিসি)। তাতে বলা হয়েছে, পোস্টারটি সত্য। এতে কোনো ভেজাল নেই। মোকতার একই সঙ্গে ক্লিনার ও সুপারভাইজার, যদিও তাকে সাইট ম্যানেজারের কাছে রিপোর্ট করতে হয়। এ ঘটনায় এক রকম হিরো বনে গেছেন মোকতার। এমনকি এমপিটিসি সুপারিশ করেছেÑ যদি আপনার সঙ্গে মোকতারের দেখা হয় তাহলে তাকে ‘হাই!’ বলুন। এর ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা তাকে দেখলেই ‘হাই’ বলছেন। নতুন এক খ্যাতি পেয়েছেন যেন তিনি। তবে এতে অস্বস্তিতে আছেন মোকতার। তিনি চান তাকে এত মানুষ না চিনুক। মোকতার বলেছেন, এতে আমি লজ্জা পাই। সব মানুষ আমাকে দেখেই হ্যালো বলে। আমি তো শুধু কাজ করতে এসেছি। আমি কাজ করতে চাই। আমাকে নিয়ে কেউ কেউ এমন কিছু বলে যা শুনতে ভাল লাগে না। অনলাইনে আমাকে নিয়ে ফান করছে। উল্লেখ্য, ব্লক ১২০ থেকে ১৩৪ পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন কাজ সুপারভাইজ করেন মোকতার। তিনি ১২৩ নম্বর ব্লক নিজের ইচ্ছায় পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিয়েছেন। কারণ তিনি দেখতে পেয়েছেন এই ব্লক পরিস্কার করার দায়িত্ব যে সহকর্মীর তার বয়স একটু বেশি। তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে মানসম্পন্ন কাজ করতে পারছেন না তিনি। তাই নিজের ইচ্ছায় ওই ব্লকের কাজ তিনি নিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে মোকতার বলেন, লোকজন আমার বসের কাছে অভিযোগ দেয়। আমার বস সমস্যায় পড়–ন এমনটা আমি চাই না। তাই আমি ওই ব্লকে কাজ শুরু করেছি। এখন আর কোনো অভিযোগ নেই। তাকে নিয়োগ করেছে থেং লিয়াং লি সার্ভিসেস নামের কোম্পানি। তারা দেখেছে মোকতার ওই ব্লকের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। তাই তারাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকেই এ দায়িত্ব পালন করতে দেয়ার। এ জন্য তাকে তার নির্ধারিত ১৬০০ ডলারের বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে অতিরিক্ত ৩০০ ডলার। ১১ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন মোকতার। এ সময়ে তিনি নিজেকে একজন রক্ষণশীল পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে উপস্থাপনা করেছেন। বসবাস করেন পায়া লেবার এলাকায়। কাজ শুরু করেন সকাল ৭টায়। শেষ করেন বিকেল ৫টার দিকে। মাঝখানে দুপুরের খাবারের জন্য পান এক ঘন্টার বিরতি। কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তারা তার ওপর আস্থা রাখেন। তাকে বিশ্বাস করেন। আমাকে কি করতে হবে বা কি করা উচিত তা কখনো আমাকে বলতে হয় না বসদের। যদি অভিযোগ আসে আমি সঙ্গে সঙ্গে চেক করতে যাবো। এর বাইরে আমি আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

desh

২০১৭-০৭-২১ ২২:৪০:০০

congratulations. Thanks for your effort and honesty. You are the better than our dishonest officer.

Iman

২০১৭-০৭-১৭ ০০:৩৬:১৪

Myself stay in Singapore. We are proud of like that Bangladesh person. Love you moktar.

আপনার মতামত দিন