৪০০০ বছরের মমি কলকাতা জাদুঘরে

চলতে ফিরতে

কাজল ঘোষ, কলকাতা থেকে ফিরে | ২৩ আগস্ট ২০১৭, বুধবার
মিশরের পিরামিড নিয়ে কৌতূহল কার নেই? কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি উৎসুক মমি নিয়ে। ছেলেবেলায় পাঠ্যবইয়ে এ বিষয়ে বিশদ বিবরণ জেনেছি। মমির জন্ম হয়েছে কিভাবে। এ নিয়ে নানান তথ্য আমাদের জানাই আছে। মিশরীয়রা বিশেষত ফারাওরা বিশ্বাস করতো মানুষের মৃত্যুর পরও তাদের অস্তিত্ব থাকে। সেজন্য মৃত ব্যক্তিকে সংরক্ষণের এক অভিনব পদ্ধতি তারা আবিষ্কার করে। এটাই পৃথিবীব্যাপী মমি বলে পরিচিত। কিন্তু যারা মমি দেখতে এতদূর অর্থাৎ মিশর পর্যন্ত যেতে পারবেন না তাদের জন্য সুখবর দিচ্ছে কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম। যেখানে আপনি খুব সহজেই মমির দেখা পাবেন। কলকাতা ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের সংরক্ষিত এই মমিটির বয়স প্রায় ৪০০০ বছর। প্রথম ১৯৯৯ সালে কলকাতা পৌঁছাবার পরদিনই হাজির হই মিউজিয়ামে। এরপর ২০১৩ সালে ফের। দুবারের অভিজ্ঞতাই কলকাতা মিউজিয়ামকে দেখেছি নানান আঙ্গিকে। মিউজিয়ামে প্রবেশের প্রথম চক্করেই মন খারাপ হয়ে যায় টিকিট কাউন্টারে। যখন দেখি লেখা আছে ভারতীয়দের বিশ রুপি করে আর বিদেশিদের পাঁচশো রুপি। একবার মনে হলো চিট করব কিনা। কলকাতার টোনে বাংলায় কথা বলে চলে গেলে কি আর হবে? কিন্তু বাদ সাধলেন সহধর্মিণী। পুষ্পিতার কথা হচ্ছে দেখবোই যখন তখন আর কম কেন? হিসাবে যা আসবে তাই দিয়েই ভেতরে যাবো। সুতরাং বিদেশি নাগরিকের কোটায় টিকিট কিনে শুরু হলো আমাদের জাদুঘর দর্শন। ঢোকার পথেই এর ছোট্ট পরিচিতি পুস্তিকা থেকে জেনে গেলাম কিভাবে এর সূচনা। কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। এর শুরু ১৮১৪ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি। এশিয়াটিক সোসাইটি অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম জাদুঘর এটি। প্রথমদিকে এশিয়াটিক মিউজিয়াম হিসেবে পরিচিত হলেও পরে এটি ইম্পেরিয়াল মিউজিয়াম নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানের ভিক্টোরিয়ান সৌধটির ভিত্তি স্থাপন করা হয় ১৮৬৭ সালে এবং ১৮৭৫ সালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর স্থপতি ছিলেন ডব্লিউ.এল গ্রানভিল। চৌরঙ্গী রোডের উপর সবুজ ময়দানের পাশে এ প্রাসাদে স্থাপিত জাদুঘরটি ১৮৭৮ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় আট হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে রয়েছে প্রায় দশ লাখের মতো সংগ্রহ। যা একদিনে দেখা যে কারও জন্যই অসম্ভব। অন্তত দু-থেকে তিনদিন সময়ের প্রয়োজন এই জাদুঘরকে ভালোভাবে জানতে হলে। শিল্পকলা, প্রত্নতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব, প্রাণীবিদ্যা, উদ্ভিদ বিদ্যা এ ছয়টি ভাগে মোট ষাটটি গ্যালারি রয়েছে। ছয়টি শাখার সবগুলোর অসংখ্য উপশাখা রয়েছে। যা হেঁটে হেঁটে দেখা প্রায় অসম্ভব। সর্বভারতীয় ইতিহাসের নানা উপাদান যতই দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে প্রাক ও আদি ঐতিহাসিক, মৌর্য, শুঙ্গ, সাতবাহন, গান্ধার, কুষাণ, গুপ্ত, পাল, সেন, চণ্ডাল ও চোল যুগীয় শিল্পের গ্যালারিগুলির পাশাপাশি অন্যান্য বহুযুগের প্রাচীন নিদর্শনের সংগ্রহও রয়েছে। একটি বিশেষ গ্যালারিতে রয়েছে মিশরীয় প্রাচীন নিদর্শনের একটি সংগ্রহ। মিশরীয় গ্যালারির প্রধান আকর্ষণ মমি। এ ছাড়াও রয়েছে সংস্কৃত, প্রাকৃত, আরবি, ফার্সি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় শিলালিপি, পাণ্ডুলিপি ও সিলমোহর। ভারতীয় প্রাচীন, মধ্যযুগীয় ও আধুনিককালের মুদ্রা রয়েছে কয়েকটি গ্যালারিতে। শিল্পকলা শাখায় ভারতীয় চিত্রকলা, বস্ত্রশিল্প ও অলংকরণ সামগ্রীর পাশাপাশি নেপাল, তিব্বত, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলংকা এবং ইরানের শিল্পসামগ্রী। নৃবিজ্ঞান শাখায় প্রত্ন-নৃতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্বের বিভাগ এবং সাথেই রয়েছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে সজ্জিত একটি গ্যালারি। জুওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া, জিওলোজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া ও  বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃক পরিচালিত বিজ্ঞান শাখার অনেকগুলি গ্যালারি রয়েছে। প্রাণীবিদ্যার গ্যালারিগুলিতে কীটপতঙ্গ, মাছ, উভচর প্রাণী, সরীসৃপ প্রাণী, পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। অর্থকরী উদ্ভিদ শাখায় ভেষজ গাছগাছড়া, উদ্ভিজ্জ তন্তু, রঞ্জক উদ্ভিদ, আঠা ও রেসিন (ৎবংরহ), দারু, তেল ও  তৈলবীজের সংগ্রহ রয়েছে। ভূতত্ত্ব বিভাগে রয়েছে সিওয়ালিক জীবাশ্ম, ভূপৃষ্ঠ ও উল্কাপিণ্ড, প্রস্তর ও খনিজ, অমেরুদণ্ডী ও মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম।
মমি সংরক্ষণে উন্নত প্রযুক্তি
চার হাজার বছরের পুরনো মমিটি ১৮৮২ সালে নিয়ে আসা হয় মিশর থেকে কলকাতা মিউজিয়ামে। শুধু ভারতেই নয় এই অঞ্চলের মানুষের আকর্ষণের বিষয় এই মমি সংরক্ষণে নেয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। বর্তমানে জাদুঘরের মিশর গ্যালারিতে একটি কাঁচঘেরা ক্যাবিনেটের মধ্যে রাখা আছে মমিটি। মমিটিকে আরো সুরক্ষিত করতে কলকাতা মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগ দিয়েছে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ সংগ্রহশালা (সিএসএমভিএস)। দু’ভাবে এই মমিটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে কাজ শুরু করেছে কলকাতা ন্যাশনাল মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ ও লখনউয়ের ন্যাশনাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি ফর কনজারভেশন। আর সিএসএমভিএসের বিশেষজ্ঞ দল লক্ষ্য রাখবেন মমিটির রক্ষণাবেক্ষণ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা।
বিড়লা প্লানেটরিয়াম
প্রথমদিন জাদুঘর দেখেই আমরা ক্লান্ত। কাজেই বাইরে বেরিয়ে লিম্বু পানি আর জিরা পানি খেয়ে তেষ্টা মিটিয়ে ফিরে গেলাম হোটেল কক্ষে। এর পরদিন খুব সকালেই তৈরি হয়ে চললাম বিড়লা প্লানেটরিয়ামে। মজার বিষয় হচ্ছে জাদুঘর থেকে বেরিয়ে একের পর এক দর্শনীয় স্থান চোখে পড়বে। প্রথমে প্লানেটরিয়াম, পরে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, তারপর ঘোড়ায় টানা ফিটন গাড়িতে বেড়ানো, ঐতিহাসিক ফোর্ট উইলিয়াম, গড়ের মাঠ, বিখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেন আর ঐ একই এলাকাতেই বিকেলে গঙ্গার পাড়ে মিষ্টি হাওয়ায় মন ভেজানো। রঙিন আলোয় পানি পুড়ি খেতে খেতে আবারও আগামীকালের পরিকল্পনা। যা হোক ফিরে আসি প্লানেটরিয়ামের কথায়। ঢাকায় ভাসানী নভোথিয়েটার হলেও যায় যাচ্ছি করে এখনও দেখার সুযোগ হয়নি। তাই কলকাতার এই প্লানেটরিয়াম দেখা হবে না তা মানতে পরছিলাম না। বাহির থেকে অনেকটা বুদ্ধ স্তূপ মনে হচ্ছিল। পরে জেনেছি সাঁচীর বুদ্ধ স্তূপের আদলে তৈরি। এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্লানেটরিয়াম। কলকাতায় এটি এম পি বিড়লা তারামণ্ডল নামে পরিচিত। ১৯৬৩ সালের ২রা জুলাই ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু এর উদ্বোধন করেন। এখানে রয়েছে একটি গবেষণাগার যেখানে শিক্ষার্থীরা গবেষণা করেন। টিকিট কেটে খানিক অপেক্ষার পর একটি অন্ধকার কক্ষে আমরা মিলিয়ে গেলাম ঘণ্টাখানেকের জন্য আকাশ প্রান্তে। গ্রহ, নক্ষত্রের রহস্য উন্মোচনের মধ্যেই একসময় আকাশ বিজ্ঞান থেকে বাস্তবে নেমে আসি। তবে এই প্লানেটরিয়ামটি গত ছয়মাসের বেশি সময় ধরে সংস্কার চলছে। অত্যাধুনিক প্রজেক্টর বসানো হয়েছে। ফলে এখন আকাশ ও তারা দেখা অনেক মনোরম হয়েছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি কিছুটা হেঁটে গেলেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।
রানির স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত যে ভবন
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল তার দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের জন্য সারা পৃথিবীর তাবৎ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। ইন্দো-সারাসেনিক রীতির আদলে নির্মিত এই ভবনটির প্রধান নকশাকারক ছিলেন স্যার উইলিয়াম এমারসন। এর গঠনশৈলীর সঙ্গে তাজমহলের মিল রয়েছে। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯০১ সালে ইংল্যান্ডের রানি  ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর তৎকালীন বৃটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন রানির স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মারক প্রাসাদ ও উদ্যান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন। ১৯০৬ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ১৯২১ সালে এই প্রাসাদ ও উদ্যানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্যানটির নকশাকার ছিলেন লর্ড রেডেসডেল ও স্যার ডেভিড প্রেইন। প্রাসাদ নির্মাণে রাজস্থানের মাকরানা মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছিল। মূল ভবনটি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ৩৩৮ ফুট ও ২২৮ ফুট এবং উচ্চতায় ১৮৪ ফুট। ৬৪ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে বাগান। জাদুঘরের মতোই এখানেও ভারতীয়দের এক মূল্যে আর বিদেশিদের অধিক মূল্যে টিকিট নিয়ে প্রবেশ করতে হয় ভেতরে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল  হলে রানি ভিক্টোরিয়া এবং প্রিন্স এ্যালবার্টের স্মৃতি বিজড়িত প্রচুর ঐতিহাসিক সামগ্রী রয়েছে। রয়্যাল গ্যালারিতে রয়েছে ভিক্টোরিয়া ও প্রিন্স অ্যালবার্টের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার ওপর আঁকা ছবি। ভারতে বৃটিশ শাসন এবং ভারতে অবস্থানকারী ব্রিটিশ কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার ইংরেজদের সম্পর্কে প্রচুর তথ্যসমৃদ্ধ সামগ্রী রয়েছে এই জাদুঘরে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয় নেতাদের ছবি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত স্মারক প্রদর্শনীর জন্য আলাদা একটি গ্যালারি রয়েছে। ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীক হিসেবে লর্ড হেস্টিংস, কর্নওয়ালিস, ক্লাইভ, ওয়েলেসলি এবং ডালহৌসির মূর্তি রয়েছে। সেসময়ের বিখ্যাত বেশকিছু তৈলচিত্রের পাশাপাশি বৃটিশ আমলের বিভিন্ন নথিপত্র, ছবি ও ভাস্কর্য। কলকাতা গ্যালারিতে রয়েছে জোব চার্নক প্রতিষ্ঠিত কলকাতা নগরীর শুরু থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতার বিকাশের ইতিহাস। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের বাগানে প্রবেশের গেটে রয়েছে সিংহাসনে বসা রানি ভিক্টোরিয়ার ব্রোঞ্জের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। দক্ষিণ দিক থেকে ভবনের দিকে এগোলে দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের স্মৃতি তোরণ। এখানে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের ব্রোঞ্জ নির্মিত মূর্তি রয়েছে। বাগানের পূর্বদিকে আছে বাঙালি শিল্পপতি স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর বেশ কিছু দুর্লভ বই রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের গ্রন্থাগারে।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনেই আপনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে টমটম বা ফিটন। নানান রঙে সাজানো এই টমটমগুলো নিয়ে যাবে আশপাশের বেশকিছু এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতে। দুশ রুপির বিনিময়ে আমরাও চেপে বসি এরকম একটি টমটমে। একেএকে চোখে পড়ে ফোর্ট উইলিয়াম। বৃটিশ ভারতের সবচেয়ে আতঙ্কের এলাকা ছিল এটি। স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত কত বীরকেই না প্রাণ দিতে হয়েছে এই ফোর্ট উইলিয়ামে অবস্থান নেয়া বৃটিশ সেনাদের হাতে। আর এখান থেকেই পুরো ভারতের রণকৌশল নির্ধারণ করতেন বৃটিশ রানির চেলারা। আজ এখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর।  তবে ফোর্ট উইলয়ামের অবস্থান মাটির নীচে। গোটা গড়ের মাঠের নিচেই রয়েছে একটি সেনা নগর। আর ফোর্ট উইলিয়ামে প্রবেশের মুখেই স্থাপিত হয়েছে একাত্তরের যুদ্ধের স্মারক। প্রতিবছর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা এবং সেনা কর্মকর্তারা কলকাতায় এসে এই স্মারকে পুষ্পার্ঘ দেন। পথ চলতেই চোখ পড়লো সেই বিখ্যাত ইডেন গার্ডেনের সুউচ্চ বাতিস্তম্ভ। এই ইডেনে অবশ্য একবার ক্রিকেট খেলায় সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। পরে দীর্ঘদিন এই খেলার মাঠটি বন্ধ ছিল আইসিসির নির্দেশে। এই স্টেডিয়ামটি সত্যিই এক অনন্য দর্শনীয় স্থান। এখন অবশ্য খেলা হয় মাঝে-মধ্যে। গড়ের মাঠের কথা আমরা কে না জানি। বিশাল বড় এই মাঠটি কলকাতা শহরে ফুসফুস হিসাবে ভূমিকা রেখে চলেছে। দলে-দলে প্রেমিক জুটি তাদের ভাব বিনিময়ে এখানেই ভিড় করেন। কখনও কখনও এই মাঠেই বসে নানান রকমের মেলা। এই গড়ের মাঠেই হয় রাজনৈতিক মিটিং। গড়ের মাঠের একধারে রয়েছে শহীদ মিনার। অবশ্য একসময় এটির নাম ছিল অক্টারলোনি মনুমেন্ট। নেপাল যুদ্ধে নিহত সেনানায়ক অক্টারলোনির স্মৃতিতে তৈরি। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর এটির নাম পাল্টে করা হয় শহীদ মিনার। ভারতীয় শহীদদের স্মরণে। এমনকি মিনারের চূড়াটিকেও লাল রঙে রাঙিয়ে দেয়া হয়। আগে এই মিনারে ওঠা যেত পুলিশের অনুমতি নিয়ে। দু একটি দুর্ঘটনার পর এখন সে সুযোগ আর নেই। এর একটু দূরেই রয়েছে কার্জন পার্ক। এখানে তৈরি হয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারির স্মরণে ভাষা উদ্যান। আগে এই পার্কে ছিল বৃটিশ নায়কদের অনেক মূর্তি। বামফ্রন্ট আমলে সেগুলি তুলে নিয়ে গিয়ে গুদামজাত করা হয়েছে বারাকপুরের লাট বাগানে। বদলে এখন এই পার্কে শোভা মাচ্ছে লেনিন, মার্কস, এঙ্গেলসের মূর্তি। এই কার্জন পার্কের পশ্চিমেই রয়েছে লাটভবন। একসময় ইংরেজ ভাইসরয় থাকতেন এখানে। এখন এটি রাজভবন। রাজকীয় সেই আয়োজনেই এখন থাকেন রাজ্যের রাজভবন। এই রাজভবন পেরিয়ে আকাশবাণী ভবনের পাশ দিয়ে এগিয়ে গিয়ে  গঙ্গার পাড়ে বসে সন্ধ্যাবেলায় সূর্যাস্তকে সাক্ষী রেখে আড্ডা দিতে ভালই লাগে। সামনে ঘাটে বাধা ছই নৌকায় উঠে একটি ঘুরে আসতেও ভাল লাগবে। ছেলে-বুড়ো সকলেই গঙ্গার জল হাওয়ায় সিক্ত হয়ে নতুনভাবে বাঁচার স্বাদ নিতে ছুটে আসেন অহোরাত্র। আর চোখ মেললেই দেখা মিলবে ডানে হাওড়া ব্রিজ আর বাঁয়ে গঙ্গার ওপর নব নির্মিত বিদ্যাসাগর সেতু।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলা চেষ্টার খবর ভিত্তিহীন’

‘প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্তের খবর সম্পূর্ণ ভূয়া’

‘জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত’

বান্দরবানের রোহিঙ্গারা কোন মনোযোগই পাচ্ছেন না

টেকনাফে চার লাখ ৯৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

যুবলীগ নেতাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ

ধুমপানে বাধা দেয়ায় দোকানিকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

পারমাণবিক যুদ্ধের হিম আতঙ্ক

লেবার নেতা হিসেবে সাদিক খানকে দেখতে চান বৃটিশ ভোটাররা

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বোস্টনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

কর্ণফুলীতে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

মনিপুর থেকে ১০৭ ‘বাংলাদেশী’ পুশব্যাক

পূর্ব লন্ডনে এসিড হামলায় আহত ৬

সাদুল্যাপুরে ১১২ মেট্রিক টন চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার বিমসটেকেও ছায়া পড়েছে

রাজধানীতে আগুনে পুড়ে নিহত ১