কলকাতায় নতুন ৩ আগন্তুক

মোম জাদুঘরে রবি ঠাকুর নজরুলের পরই বঙ্গবন্ধু

চলতে ফিরতে

কাজল ঘোষ, কলকাতা থেকে ফিরে | ২৫ আগস্ট ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:১৩
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ঘোষণা ছিল কলকাতাকে তিনি লন্ডন শহরের আদলে তৈরি করতে চান। আর তা যে কেবল কথার কথা নয় তার প্রমাণও রাখছেন বেশকিছু স্থাপনা তৈরির মাধ্যমে। যেমন যখনই আপনি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেমে মূল শহরের পথে এগুবেন কিছুদূর যাওয়ার পর আপনার চোখে পড়বে বিগ বেন। হঠাৎ আপনি ভাবতে পারেন এটা কি কলকাতা না লন্ডন। ভড়কে যাওয়ার মতোই ঘটনা। আসলে লন্ডনের বিগবেনের আদলে এখানেও তৈরি হয়েছে বিগ বেন। ঠিক যেমনটি মমতা ব্যানার্জি করেছেন লন্ডনের মাদাম তুসোর মিউজিয়ামের আদলে মোমের জাদুঘর সূচনা করে। এতদিন পর্যন্ত আমরা তো মোমের জাদুঘর বলতে লন্ডনের মাদাম তুসোর জাদুঘরের কথা জানতাম। দুনিয়ার সব খ্যাতনামা মানুষগুলো চির স্থায়িত্ব পেয়েছেন যেখানে শিল্পীদের ছোঁয়ায়। কিন্তু এখন তা কলকাতার উপকণ্ঠ নিউ টাউনে। আর ইস্টার্ণ বাইপাসে সায়েন্স সিটির কাছে বর্তমানে চোখে পড়বে নতুন আরেকটি স্থাপনা তা হচ্ছে বহুতল দুটি ভবন জোড়া দিয়ে একটি কাঠামো। একেবারে আকাবাঁকা এই কাঠামোতে মেঘের আকৃতি আনা হয়েছে। যদিও এর কাজ এখনও শেষ হয়নি। তবে এটি বেসরকারি পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে। কলকাতা শহরে নতুন এই তিন আগন্তুক আলোচনায়।
মাদারস ওয়াক্স মিউজিয়াম
লন্ডনের মাদাম তুসোর জাদুঘর নিয়ে দুনিয়াজুড়েই মাতামাতি। সাত সমুদ্র পেরিয়ে এখন এতদূর যাওয়ার দরকার নেই। সব খ্যাতনামাদের মোমের মূর্তি এখন কলকাতাতেই। মাদারস ওয়াক্স মিউজিয়ামের সূচনা ২০১৪ সালের নভেম্বরে। পূর্ব কলকাতার নিউটাউন বলে পরিচিত রাজারহাটে নিরিবিলি পরিবেশে এর অবস্থান। ২০০ রুপির টিকিট নিয়ে এর ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন অন্য জগৎ। কখনও ভয় আপনাকে চেপে ধরবে। আবার কখনও প্রিয় ব্যক্তিত্বকে দেখে মনেই হবে না তিনি আমাদের মধ্যে নেই। একেবারে নিচ তলাতে প্রবেশ মুখেই দাঁড়িয়ে আছেন মাদার তেরেসা। আর এরপরই দেখা মিলবে বাপুজি অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী। গান্ধীজীর শীর্ণকায় শরীর আর হাতে লাঠি দেখে যে কেউ ভাবতে পারেন এই বুঝি বাপুজি হেঁটে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের অহিংস আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতেই এই পথচলা। তারপরই দেখা যাবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছেন। কবিগুরুর পাশেই দেয়া আছে বসার সোফা। আপনি সেখানে বসলেই মনে হবে কবিগুরুর স্বকন্ঠে কোন কবিতার আবৃত্তি শুনছেন। এরপর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আর তারপর অপেক্ষা করছে এক বিষ্ময়। যেখানে আপনি দেখবেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বক্তৃতা করছেন। অঙুলি উঁচিয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। নির্দেশ দিচ্ছেন যার যা কিছু তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার। দুই কৃতী বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ও নিউটনের মূর্তি দেখলে অবাক হতে হয়। এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরি। এভাবেই ধীরে ধীরে এক ঐন্দ্রজালিক মুগ্ধতায় হারিয়ে যেতে হয় মোম জাদুঘরে। শ্রী রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, সুভাষ চন্দ্র বসু, জগদীশ চন্দ্র বসু, সত্যজিৎ রায়, এপিজে আব্দুল কালাম, প্রণব মুখার্জি, উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, মান্না দে, ভূপেন হাজারিকা, লতা মুঙ্গেশকর, অমিতাভ বচ্চন, মিঠুন চক্রবর্তী, শাহরুখ খান, সালমান খান, ব্রাড পিট, অ্যানজেলিনা জোলি, দিয়াগো ম্যারাডোনা, সৌরভ গাঙ্গুলি, কপিল দেব, শচিন টেন্ডুলকরের মতো ব্যক্তিত্বদের মোমের মূর্তি রয়েছে এই মিউজিয়ামে। দিন যত যাচ্ছে এর কলেবর ততই বড় হচ্ছে। প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সৃষ্টি। অসাধারণ এই মোমের মূর্তিগুলো গড়েছেন কলকাতার বিখ্যাত ভাস্কর সুশান্ত রায়। বর্ধমানের আসানসোলে রয়েছে সুশান্ত রায়ের নিজস্ব স্টুডিও। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, মমতা ব্যানার্জি দুই মেগাস্টারকে নিয়ে এর উদ্বোধন ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন ২০১৪ সালের নভেম্বরে। শুরুর দিন দিদির একদিকে ছিলেন বিগ বি অমিতাভ বচ্চন আর অন্যদিকে ছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। লন্ডনের মাদাম তুসোর আদলে তৈরি মাদারস ওয়াক্স মিউজিয়াম কলকাতা বেড়াতে আসা সকলের কাছেই আকাঙ্ক্ষিত এখন। নিউ টাউনের ফাইনান্স সেন্টারে ৫,০০০ বর্গফুট এলাকার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে মাদারস ওয়াক্স মিউজিয়াম। হাউজিং ইনফাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (হিডকো) সহায়তায় গড়ে উঠেছে এই প্রকল্প। এটি ভারতের প্রথম মোমশিল্পের জাদুঘর। এটি মাদাম তুসো জাদুঘরের আদলে নির্মিত। জাদুঘরটি মাদার তেরেসার নামাঙ্কিত।
বিগ বেন
উত্তর কলকাতার লেক টাউন ক্রসিংয়ে ভিআইপি রোডে (কাজী নজরুল ইসলাম সরণিতে)  অবস্থিত বিগ বেন অব কলকাতা। এটা কলকাতা টাইম জোন বা কলকাতা ক্লক টাওয়ার নামেও পরিচিত। লন্ডনের বিগ বেনের আদলে কলকাতায় এটি তৈরি করা হয়েছে। কলকাতাকে লন্ডনের মতো বানাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গির অংশ এই বিগ বেন। লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী বিগ বেন টাওয়ারের মতো হুবহু দেখতে বিগ বেন অব কলকাতা। এর উচ্চতা ১৩০ ফুট। বিস্ময়কর এই স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করেছে দক্ষিণ দমদম মিউনিসিপ্যালিটি এবং স্থানীয় এমএলএ সুজিত বোস। তবে বিগ বেন অব কলকাতার চেয়ে প্রায় তিনগুন দীর্ঘ লন্ডনের আসল বিগ বেন। পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ ক্লক টাওয়ার বা টলেস্ট ক্লক টাওয়ারকে বলা হয় ভারতের সর্বোচ্চ টাওয়ারগুলোর অন্যতম। হোসেইনাবাদ ক্লক টাওয়ারের পরেই এর স্থান। হোসেইনাবাদ ক্লক টাওয়ার ২২০ ফুট উঁচু। ২০১৫ সালে বিগ বেন অব কলকাতা নির্মাণ করতে খরচ হয় এক কোটি ৩৬ লাখ রুপি। অ্যাংলো সুইস কোম্পানির সরবরাহ করা ঘড়ি স্থাপন করা হবে এতে, যা চারদিক থেকেই দেখা যাবে। তবে এমন সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে এত বেশি সরকারি অর্থ খরচ করা নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি অর্থে এমন একটি টাওয়ার নির্মাণের বিষয়ে গণভোট দাবি করে বাড়ি বাড়ি স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছিল। মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সংবলিত প্রতিক্রিয়ার বাণ ডেকেছিল সামাজিক মিডিয়ায়। কেউ কেউ এই অবকাঠামো নিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। অনেকে প্রশংসাও করেছেন এই টাওয়ারের। কলকাতায় দমদম বিমানবন্দরে নেমে কলকাতায় আসা বিদেশি পর্যটকরা মুগ্ধ হয়ে দেখেন এই বিগ বেনকে।
কলকাতার নির্মাণ স্থাপত্যে    নতুন সংযোজন
দুটি সুউচ্চ ভবনের সংযোগ স্থাপন করে একটি কাঠামো কলকাতার নির্মাণ স্থাপত্যে নতুন সংযোজন। এটির নির্মাণ চলছে। এটি বাইপাসের সায়েন্স সিটির ঠিক পেছনেই অবস্থিত। অ্যাটমসস্ফিয়ার নামের ভবন দুটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। কথা বলে জানতে পেরেছি, এই উঁচু ওয়াকওয়েতে মনে হবে মেঘের মধ্যে অবস্থান করছি। পুরো কাঠামোটা একদম শূণ্যে ঝুলছে। মাটি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৫০০ ফুট। মানুষ যেমন হেঁটে চলাফেরা করতে পারবে। ঠিক তেমনি বসে কফি খেতে পারবে। আবার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ হলে জিম বা ব্যায়ামাগার যেমন থাকবে। তেমনি থাকবে ফুড কোর্ট ও কফি হাউজ। আর সবুজের ছোঁয়াও থাকবে। এটির নকশাকার সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত এআরসি স্টুডিওর স্থপতি  দম্পতি খো পেঙ নেঙ এবং বেলিন্ডা হুয়াঙ। দূর থেকে দেখে মনে হবে এটি খুব শক্তিশালী লোহা দিয়ে তৈরি। তা মোটেই নয়। এর আয়তন একটি এ-৩৮০ এয়ার বাস প্লেনের সমান। নাম দেয়া হয়েছে ‘দেয়া’। এই দেয়ায় এলে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনাকারীরা। এর স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের মতে, বাতাসের গতির তীব্রতা এবং ভূকম্পনের দিকে নজর রেখে সমস্ত ধরণের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া হযেছে। আর এখানে এলে মেঘের রাজ্যে প্রবেশের এক অনন্য অনুভূতি হবে। আর এটাই হবে কলকাতার স্কাই লাইনের আধুনিক বৈশিষ্ট্য। ইতিমধ্যেই এটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ ঘটেছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলা চেষ্টার খবর ভিত্তিহীন’

‘প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্তের খবর সম্পূর্ণ ভূয়া’

‘জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত’

বান্দরবানের রোহিঙ্গারা কোন মনোযোগই পাচ্ছেন না

টেকনাফে চার লাখ ৯৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

যুবলীগ নেতাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ

ধুমপানে বাধা দেয়ায় দোকানিকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

পারমাণবিক যুদ্ধের হিম আতঙ্ক

লেবার নেতা হিসেবে সাদিক খানকে দেখতে চান বৃটিশ ভোটাররা

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বোস্টনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

কর্ণফুলীতে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

মনিপুর থেকে ১০৭ ‘বাংলাদেশী’ পুশব্যাক

পূর্ব লন্ডনে এসিড হামলায় আহত ৬

সাদুল্যাপুরে ১১২ মেট্রিক টন চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার বিমসটেকেও ছায়া পড়েছে

রাজধানীতে আগুনে পুড়ে নিহত ১