স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে জেলেই রায় শোনাবেন বিচারক

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ২৭ আগস্ট ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০২
ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং ইনসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন। আর তাই সোমবার হরিয়ানার পাঁচকুলার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিংহ রোহটকের সুনারিয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে জেলের ভিতরে তৈরি হওয়া অস্থায়ী এজলাসে গিয়েই গুরমিত রাম রহিম সিংহের সাজা ঘোষণা করবেন। হেলিকপ্টারে করে বিচারককে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে রায় শোনানোর জন্য। এই জেলেই ১৯৯৭ নম্বর কয়েদি হিসেবে জেলবন্দী রযেছেন অতিপ্রভাবশালী রাম রহিম সিং। গত শুক্রবারই সিবিআই আদালত তাকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর পরেই রাম রহিমের ডেরা ভক্তরা হিংসায় মেতে উঠেছিল। হরিয়ানা, পাঞ্জাব ছাড়িয়ে হিংসার আগুন দিল্লির দোর গোড়াতেও পৌঁছেছিল। এই হিংসায় ৩৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর পরেই সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারফু জারি করা হযেছে । হোটা রোহটককে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। ২৮ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। সাজা ঘোষনার পরে যাতে রাম রহিমের ভক্তকুল যাতে ফের হিংসায় মেতে না উঠতে পারে সেজন্য সব রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ধর্মগুরুর মূল আশ্রমসহ সব ডেরাগুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার রেডিওতে “মন কি বাত” অনুষ্ঠানে ভারতের  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মোদি বলেছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে হিংসা ছড়ানো কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না । এর আগে, হরিয়ানা হাইকোর্ট হিংসা ছড়ানোর জন্য হরিয়ানা রাজ্য প্রশাসন এমন কি কেন্দ্রের ভূমিকারও সমালোচনা করেছিলেন। হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল প্রধানমন্ত্রী শুধু বিজেপির নয়, তিনি গোটা দেশেরই। এদিকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করার দিনে ধর্মগুরুর সাত দেহরক্ষী যেভাবে প্রশাসনকে তাকে জেলে নিয়ে যেতে বাধা দিয়েছিলেন সেই অপরাধে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেড ক্যাটগরির সুবিধা পাওয়া এই সাত পুলিশ কর্মী গত ছয় বছর ধরে ধর্মগুরুর দেহরক্ষীর কাজ করছিল। মিডিয়ার খবর, রামরহিমকে জেলে বিশেষ কোনও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। জেলের কুঠরীতে ভুমিতেই শয্যা গিয়েছেন বাবা। কোনও বন্দী যাতে বাবার তোনও ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য সেলের বাইরে কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সিরসা আশ্রমের দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০০২ সালে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছিল। অবশ্য ধর্ষিতা এক সাধ্বী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী সহ বিভিন্ন স্তরে যন্ত্রণার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। এর পরেই মামলা শুরু হয়েছিল। সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে প্রায় ১৪ বছর মামলাটি চলার পর স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। হরিয়ানার ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান রাম রহিম সিং ইনসানের পাঁচ কোটি শিষ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার সম্পত্তির পরিমানও প্রায় ৫ লক্ষ কোটি রুপি। তিনি একাধারে ঈশ্বরের দূত, গায়ক, অভিনেতা পরিচালক।  অনেকে তাকে রকস্টার বাবা বলেও চিহ্নিত করেন।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন