মিয়ানমারের পাশে চীন, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬
দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মিয়ানমারকে সমর্থন দেয়ার কথা ব্যক্ত করেছে চীন। শুধু তা-ই নয়, তারা মিয়ানমারের এই ‘কর্মযজ্ঞে’ সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গা মুসলিম সংকট নিয়ে মিয়ানমার যে ‘সেফগার্ড স্ট্যাবিলিটি’ বা স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাতে সমর্থন রয়েছে চীনের। লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্রেকিং নিউজ হিসেবে এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে চীন। তিনি বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখতে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতেও আমাদের সমর্থন রয়েছে। আমরা আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব সেখানে শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়নের জন্য মিয়ানমার তার স্থিতিশীলতার সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছে। এ জন্যই তাদের প্রচেষ্টা। মিয়ানমারের এই প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার কারণে কমপক্ষে ৩ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছেই। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সরকারের নিন্দা জানিয়েছে। সুচির প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু সুচি বলছেন, তারা ‘টেররিস্ট’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। এতে গণহারে মানুষ মারা হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন এই হত্যাকাণ্ডকে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আগামীকাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বৈঠকে বসছে। খবর ছড়িয়ে পড়েছে, ওই বৈঠকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে চীন। আর মিয়ানমারকে চলমান সহিংসতায় সমর্থন প্রকাশের ব্রেকিং রিপোর্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রকাশ করলো সেই বৈঠককে সামনে রেখেই।  

নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক, আটকে দেয়ার চেষ্টা চীনের
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে আজ বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো নৃশংসতায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ বৈঠক আহ্বান করেছে বৃটেন ও সুইডেন। এ খবর দিয়েছে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার বিষয়ক ওয়েবসাইট আরটিই। জাতিসংঘে নিযুক্ত বৃটেনের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রোফট রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আজকের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক নিয়ে বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে কি অবর্ণনীয় অবস্থা চলছে তাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কি পরিমাণে উদ্বিগ্ন সে বিষয়টি ফুটে উঠেছে এতে। ওই সব রোহিঙ্গা পালিয়ে রাখাইন ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। উল্লেখ্য, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের নৃশংস অত্যাচারকে জাতিসংঘ ‘জাতি নির্মূল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক সভ্যতায় একটি জাতিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে অং সান সুচির সরকার। সোমবার পাওয়া জাতিসংঘের তথ্য মতে, ২৫শে আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর কমপক্ষে তিন লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।  সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন মিয়ানমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর ‘সিস্টেম্যাটিক আক্রমণ’ চালাচ্ছে মিয়ানমার। তিনি এটাকে জাতি নির্মূল বা এথনিক ক্লিনজিং বলে আখ্যায়িত করেন। হোয়াইট হাউস থেকেও রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাস্তুচ্যুত হওয়া দেখে বোঝা যায়, সেখানকার নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা বেসামরিক সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে, সহিংসতা বন্ধ করতে ও সব সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া বন্ধের জন্য মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। উল্লেখ্য, এর আগে আগস্টের শেষের দিকে মিয়ানমারের এই ভয়াবহ সহিংসতা নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে তারা তখন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় নি। জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলছেন, আজ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ এই সংস্থা যখন জরুরি বৈঠক ডেকেছে তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে চীন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য মিয়ানমারকে খুব বেশি প্রয়োজন চীনের। তাছাড়া তাদের অস্ত্রের বড় বাজার রয়েছে মিয়ানমারে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যখনই জাতিসংঘে যাওয়ার আলোচনা উঠেছে ঠিক তখন থেকেই মিয়ানমার কূটনৈতিক দূতিয়ালি শুরু করেছে। তারা চীন ও রাশিয়াকে হাতে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে রিপোর্ট বেরিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যদি কোনো উদ্যোগ গৃহীত হয় বা হওয়ার আলামত দেখা দেয়, তা বন্ধ করে দিতে বা সেই উদ্যোগে ভেটো দিতে চীন এবং রাশিয়াকে প্রলুব্ধ করেছে বা করছে মিয়ানমার। তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতিসংঘের কূটনীতিকরা। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি। অং সান সুচির প্রতি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড থেকে তাকে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী দালাইলামা, দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু। তারা সহ পাকিস্তানের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলতে, নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আরও তিন দেশ

‘যেভাবে ভাবি সেভাবে এখনো ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে পারিনি’

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ইউএনএইচআরসি

ভিত্তিহীন খবরে তোলপাড়

মার্কেল?

ফের সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত

সন্তানদের সামনেই শামিলাকে ধর্ষণ করে বার্মিজ সেনারা

মন্ত্রী-এমপিরা আমাদের সঙ্গে আছেন

মনোনয়ন দৌড়ে ২৩ নেতা

ট্রাকচালক থেকে সপরিবারে ইয়াবা ব্যবসায়ী

খুচরা বাজারেও কমেছে চালের দাম

বাড়লো আটার দাম

মালিতে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত

উল্টো পথে যাওয়া প্রতিমন্ত্রী, সচিবের গাড়িসহ ৫০ যানবাহনকে জরিমানা

উল্টো পথে গাড়ি জরিমানা গুনলেন প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিএনপির তিন প্রস্তাব