মডেল থেকে জঙ্গি

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৩
 ২০০৯-১০ সালের কথা। তখন তিনি মডেল হিসেবে কাজ করতেন। র‌্যাম্প মডেল হিসেবে বেশ খ্যাতিও পেয়েছিলেন। ইনফরমেশন টেকনোলজি’র (আইটি) ব্যবসা করতে গিয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন এ সেক্টরেও। গৃহসজ্জার ব্যবসাও করেন সফলতার সঙ্গেই। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ২৯ বছরের এই যুবকের নাম মেহেদি হাসান।
সবকিছু ছেড়ে ২০১৫-১৬ সালের দিকে তিনি ঝুঁকে পড়েন জঙ্গিবাদে। সেই থেকেই নিষিদ্ধ পথে পথচলা তার। নিজের নামের আগে জুড়ে দেন ‘ইমাম’ শব্দটি। নিজ গণ্ডিতে পরিচিত হয়ে ওঠেন সাংগঠনিক নাম আবু জিব্রিল নামে। এই ইমাম মেহেদি হাসানের হাতেই তৈরি হয়েছে বহু জঙ্গি। অনেকের বাইয়াত দিয়েছেন তিনি। সেই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। যাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে বিভিন্ন জঙ্গি অভিযানে মারা গেছে, কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে। আবার কেউ এখনো গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি দুর্ধর্ষ এই জঙ্গি নেতা ইমাম মেহেদি হাসান ওরফে আবু জিব্রিলের। ধরা পড়েছেন র‌্যাবের জালে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩ এর একটি দল। গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, র‌্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, ইমাম মেহেদি হাসানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল হলি আর্টিজানের ঘটনায় নিহত জঙ্গি নিবরাসের। তিনি জেএমবি’র সারোয়ার-তামিম গ্রুপের একটি ব্রিগেডের কমান্ডার।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর সিও জানান, হলি আর্টিজানসহ দেশের বিভিন্নস্থানে হামলা চালাতে জেএমবি (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) দু’টি অপারেশনাল ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করে। ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’ হলি আর্টিজানসহ অন্যান্য হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। অপর একটি ব্রিগেড ‘ব্রিগেড আদ্‌-দার-ই-কুতনী’ ব্যাকআপ বা রিজার্ভ ব্রিগেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ‘ব্রিগেড আদ্‌-দার-ই-কুতনী’ তথ্যপ্রযুক্তিতে অত্যন্ত আধুনিক। গোপনে তারা কর্মী বা সদস্য সংগ্রহে নিয়োজিত ছিল। তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে মূল অপারেশনাল কাজে অংশগ্রহণকারী ‘বদর স্কোয়াড’-এর বেশিরভাগ সদস্য নিহত ও আটক হওয়ায় ব্রিগেডটি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ব্যাকআপ ব্রিগেড হিসেবে রক্ষিত ‘আদ্‌-দার-ই-কুতনী’ সদস্য সংগ্রহ করে শক্তিশালী হওয়ার কার্যক্রম শুরু করে।
র‌্যাব-৩ এর সিও জানান, সাম্প্রতিক অভিযানে বেশকিছু সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়া এসব জঙ্গি ‘ব্রিগেড আদ্‌-দার-ই-কুতনী’র অস্তিত্ব স্বীকার করে। নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানায়, ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিব্রিলের নেতৃত্বে ‘ব্রিগেড আদ্‌-দার-ই-কুতনী’ পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। তাদের দেয়া এই তথ্যানুসন্ধানে র‌্যাব-৩ এর গোয়েন্দা দল মাঠে নামে। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ব্রিগেডের কমান্ডার ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিব্রিল (২৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। জঙ্গি মেহেদির বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার রাজাপুর গ্রামে। তার পিতা মো. খোরশেদ আলম সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। গ্রেপ্তারের সময় জঙ্গি নেতার কাছ থেকে ২টি ল্যাপটপ, ১টি মোবাইল, ১টি পাসপোর্ট, ও উগ্রবাদী বইসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় এবং উত্তরা পশ্চিম থানাসহ বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম মেহেদী হাসান জানিয়েছে, সে ২০১৫ সাল থেকে জেএমবি’র সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। হলি আর্টিজানে নিহত নিবরাসসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। তিনি কর্মী সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণ ও হিজরতের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পর্বসমূহ সম্পন্ন করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়লে তিনি ‘ব্রিগেড আদ্‌ দার-ই-কুতনী’র কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সম্প্রতি কর্মীদের আনুগত্য পরীক্ষার পর কিছু অংশকে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এজন্য তিনি ঢাকা, টাঙ্গাইল ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা করতে উদ্বুদ্ধ সদস্যদের শপথ (বাইয়্যাত) দেন। এসব শপথের (বাইয়্যাত) ভিডিও চিত্র ধারণ করে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে উগ্রবাদী চ্যানেলে প্রচার করে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন।
গ্রেপ্তারকৃত আবু জিব্রিলের বরাত দিয়ে র‌্যাব-৩ এর সিও আরো বলেন, ব্রিগেড আদ্‌-দার-ই-কুতনী’তে আনসার (সাহায্যকারী), মুহাজির (যোদ্ধা), সালাফি আলেম বোর্ড এবং অর্থ প্রদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি রয়েছে। এই ব্রিগেডকে শক্তিশালী করতে সদস্যরা নিয়মিত তাকে ইয়ানত (অর্থ) প্রদান করতেন। সেই অর্থ সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যয় করতেন। আবু জিব্রিল জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ সদস্যদের মধ্যে সাংগঠনিক বিয়ের ব্যবস্থাও দেখভাল করতেন। তার মাধ্যমে হিজরত করা ২ জঙ্গি ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। র‌্যাব জানায়, তার কাছ থেকে উদ্ধার করা আলামত থেকে জানা যায়, এই ব্রিগেড ‘আদ্‌-দার-ই-কুতনী’ অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং যেকোনো স্থানে নাশকতা ঘটানোর জন্য সক্ষম।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ