‘পকেটের টাকা দিয়ে রোডমার্চ করেছি চাঁদাবাজি করিনি’

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০১
 ‘পকেটের টাকা দিয়ে রোডমার্চ করেছি। কোনো চাঁদাবাজি করিনি। যারা চাঁদাবাজি বলছেন- তাদের বিরুদ্ধে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম।’ গতকাল সিলেটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ চ্যালেঞ্জ জানালেন হিউমিনিটি ফর রোহিঙ্গা সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি শাহীনুর পাশা চৌধুরী। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মনিটরিং সেলের পক্ষ থেকে কোনো গাড়ি রোডমার্চের দিন ভাড়া করা হয়নি। আমরা দু’সপ্তাহ গণসংযোগের জন্য বিভিন্ন এলাকায় সুধীদের গাড়ি নিজ উদ্যোগে ভাড়া করে নিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছি।’ জমিয়তে উলামায়ের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহীনুর পাশা চৌধুরীর রোডমার্চ এবং পুলিশি বাধায় ফিরে আসা নিয়ে সিলেটে আলোচনা চলছে। এই আলোচনার ইতি ঘটাতে গতকাল তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
এই সংবাদ সম্মেলনে রোডমার্চে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের নাম ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেছেন শাহীনুর পাশা চৌধুরী। বলেছেন, চাঁদাবাজি করে নয়, সংগঠনের কর্মীদের সহযোগিতায় এই রোডমার্চের টাকা এসেছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ থেকে বার্মার সন্ত্রাসী বৌদ্ধরা যখন রোহিঙ্গা মুসলিম ভাই-বোন এমনকি হিন্দুদের উপর অতীতের নির্যাতনের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে বর্বরোচিত আক্রমণ বৃদ্ধি করে। বিশ্বের বিবেকবান সকল মানুষ স্তম্ভিত হয়। প্রতিবাদ শুরু হলো বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের দায়িত্ববোধ তুলনামূলকভাবে বেশি। সে দায়িত্বানুভূতি থেকে বিভিন্ন ভাবে দলমত নির্বিশেষে আমরা সাহায্যের হাত সম্প্রসারণ করেছি। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ভাবে ত্রাণ তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। যারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, আল্লাহর দরবারে তাদের উত্তম প্রতিদান কামনা করি। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরও মজলুম সেই মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর তওফিক দান করেন। বিবেকহীন সেই সন্ত্রাসী বৌদ্ধদের লাগাম টেনে ধরা ছিল সময়ের দাবি। বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করতে রোড মার্চ কর্মসূচি গ্রহণ করি। গত ৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের স্বার্থ নিয়ে গঠিত হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ব্যানারে আমরা ৬ই সেপ্টেম্বর রোডমার্চের ঘোষণা করি। আপনাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে সিলেট টু টেকনাফ রোডমার্চের আওতাভুক্ত দেশের ১০টি জেলা ও রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণি-পেশা এবং প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে সফলতার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাই। আলহামদুলিল্লাহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আশাতীতভাবে সফলতা পাই। সর্বশেষে নির্ধারিত তারিখে ২১শে সেপ্টেম্বর যথাসময়ে সিলেটের হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে রোডমার্চ কাফেলা রওয়ানা দিয়ে পথিমধ্যে পুলিশি বাঁধার মুখে সিলেটের রশিদপুর এলাকায় সমাপ্ত করতে হয়। যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন, অংশগ্রহণ করেছেন সবাইকে মোবারকবাদ। আমাদের কর্মসূচি ছিল রোডমার্চ। ত্রাণ সংগ্রহ বা এ ব্যাপারে চাঁদা সংগ্রহের কোনো সুযোগ ছিল না। আমাদের সব ক’টি সংবাদ সম্মেলন, পোস্টার, ব্যানার, স্টিকার অথবা প্রশাসনের কাছে অবগতিপত্রের দরখাস্তের কোথাও ত্রাণ বিষয়ে কোনো কথা আকারে ইঙ্গিতেও উল্লেখ ছিল না। যেহেতু আমাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘রোড মার্চের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত করে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান’। সুতরাং এই রোডমার্চে যারা যেসব এলাকা থেকে হাজির হয়েছিলেন স্ব স্ব উদ্যোগে, রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে রোডমার্চ বহরে এসেছেন। কারণ বার্মার নির্যাতিত মানুষের পাশে বিবেকবানরাই এগিয়ে এসেছেন স্বপ্রণোদিত হয়ে। যে কারণে আমাদের এই কর্মসূচিতে দেশ ও বিদেশের দরদি জনতা সর্বসাকুল্যে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৭ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এর বাইরে যদি কেউ এক টাকা দেয়ার প্রমাণ দিতে পারেন, তাদের প্রতি ওপেন চ্যালেঞ্জ দেন তিনি। যারা দান করেছেন- হাজী তখলিছ মিয়া, ডারবী ইউকে ২০ হাজার টাকা, ডা. সৈয়দ খুররম, রাগিব রাবেয়া হাসপাতাল ৪ হাজার টাকা, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম কামালী ও মাওলানা হাফিজ সৈয়দ জুনেদ আহমদ ১০ হাজার টাকা, হিফজুল করিম মাসুক, ইউকে ৫ হাজার টাকা, মাওলানা মিলাদ, দারুল কুরআন মাদরাসা ৫ হাজার টাকা, মাওলানা সাদিকুর রহমান, ওল্ডহ্যাম ইউকে ১০ হাজার টাকা, বাদাঘাট শিবেরবাজার সংস্থা ২৩ হাজার ৪ শত টাকা, হাজী মোহাম্মদ আলী, কাতার ২৫ হাজার টাকা, হাফিজ মাওলানা লোকমান খান ৫ হাজার টাকা, একজন পথিক গাড়িতে ১ শত টাকা, আলহাজ নজরুল ইসলাম, ওমান ২৫ হাজার টাকা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ওমান শাখার পক্ষে আবদুল হালিম সাতবাকী ৩৬ হাজার ৫ শত ৭ টাকা, জনৈক ব্যক্তি ১৫ হাজার টাকা, মাওলানা জহির উদ্দিন দরবস্তী, দুবাই, বিকাশে ২০ হাজার টাকা, দারুল কুরআন মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদের পক্ষ থেকে সংগৃহীত ৬০ হাজার টাকা, মাওলানা কবির আহমদ খান, ৫০ হাজার টাকা। সর্বমোট ৩ লাখ ১৪ হাজার ৭ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অন্যতম সদস্য মাওলানা আলী নূর, মিডিয়া সমন্বয়কারী মাওলানা কবির আহমদ খান, মাওলানা মোসাদ্দিক আহমদ, আকিকুর রহমান পীর, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ উবায়দুর রহমান প্রমুখ।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Rubo

২০১৭-০৯-২৫ ০৮:২২:২০

পকেটে অনেক টাকা আছে বুঝলাম । কিন্তু আয়কর দিয়েছেন কতো ?

Ruhul Amin Jakkar

২০১৭-০৯-২৫ ০৫:৩১:৫০

ধন্যবাদ মাননীয় নেতা, সিলেটের কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন, মাদানী কাফেলার বিচক্ষন কান্ডারী এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী- আপনার সততাও স্বচ্ছতার জন্য। যারা আপনাকে হেয় করতে 'কোটি টাকার বাণিজ্য' নামে ভার্চুয়াল জগতকে কলুষিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন। আমরা পাশার পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো।

আপনার মতামত দিন

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ