‘প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্তের খবরের সত্যতা নেই’

দেশ বিদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যা ষড়যন্ত্র খবরের কোনো সত্যতা নেই। তাই এনিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। গতকাল সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যায় জঙ্গিদের একটি চক্রান্ত বানচাল করা হয়েছে বলে যে খবর বিদেশি গণমাধ্যমে এসেছে, তা নাকচ করে দিয়ে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যা ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কোনো তথ্য আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এর  কোনো সত্যতা আছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়নি। সুতরাং এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্ন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এদের ‘রিফিউজি (শরণার্থী)’ স্ট্যাটাস (মর্যাদা) দেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে আমু বলেন, রোহিঙ্গাদের (শরণার্থী) স্ট্যাটাস দেয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তা-ভাবনা আপাতত নেই। যে পরিসংখ্যানটা-এটা আমরা হিসাব রাখছি। আমরা চাই রোহিঙ্গারা তাদের স্ব-স্থানে আবার ফিরে যাক। সেই ফিরে যাওয়ার জন্য তারা ওখান থেকে আসলো, এটার একটা তথ্য দরকার। এ জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি টিম মিয়ানমারে যাওয়ার কথা ছিল- সেটা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এর কারণ আলোচনার বিষয়ে কোনো সময় নির্ধারণ হয়নি। এটা এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আলোচ্য বিষয়, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সারা দুনিয়া এটা নিয়ে তৎপর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে দাবি করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতন ও শিশু হত্যার যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে সরকার এগুলো অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমনের চেষ্টায় আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করছে। আজকে যে ব্যাপারটা মূল সেটা হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা দেশে। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি আবার আয়তনও কম। তারপরও আমাদের প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই অসহায় মানুষগুলোকে কাছে টেনে নিয়েছেন এবং তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সব বিষয়ে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরা যাতে আবার বাইরে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে যেতে না পারে, আপাতত ১২টা ক্যাম্প করা আছে সেই ক্যাম্পেই থাকবে। তিনি বলেন, প্রতিদিনই লোক আসছে। আমাদের হিসাব মতে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৪ লাখ লোক (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সেই দিকে লক্ষ্য করে ক্যাম্পের সংখ্যা ও সাহায্য বাড়ানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিচ্ছি। রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেন্দ্র করে সামপ্রদায়িকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এগুলো ভুয়া সংবাদ, এগুলোর কোনো সত্যতা নেই। বাংলাদেশে বুড্ডিস্ট সমাজ অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন, তারা মিয়ানমারের এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই এটা তারা প্রকাশ করেছেন। তারাও আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। আমরাও তাদের ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি রেখেছি, যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী কোনো রকম অঘটন ঘটাতে না পারে। তিনি বলেন, সামনে পূজা, এবার ৩০ হাজার ৭৭টি পূজামণ্ডপ হবে বলে আমাদের কাছে হিসাব রয়েছে। প্রত্যেকটি মণ্ডপকে কেন্দ্র করে পূজা কমিটি, স্থানীয় জনগণ, বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে মিটিং ও মতবিনিময় করে সেখানকার পরিস্থিতির উপর সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে এমনি ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করে কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে পারেনি। ইতিমধ্যে দু’চারটি ঘটনা আপনারা লক্ষ্য করেছেন তারা যদি পারতো তবে একটি ভয়ঙ্কর অবস্থা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা তাদের ছিল। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি বলেন, আমাদের দেশের মিডিয়ার কিছু কিছু ভুল তথ্য দিয়ে, বিশেষ করে ইউটিউবে ভুল তথ্য দিয়ে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়, সেগুলোর দিকে জনগণের দৃষ্টি না দেয়াই ভালো। এগুলোর উপর বিশ্বাস না রাখাই ভালো। কারণ তাদের তথ্যের সঙ্গে যে বাস্তবতার কোনো মিল নেই, এটা তারা প্রকাশ্যেই দেখতে পাচ্ছেন। তাই আমি অনুরোধ করবো, এ ধরনের ভুয়া তথ্যের উপর তারা নির্ভরশীল না হয়। তিনি বলেন, ইউটিউব একটা সস্তা জিনিস হয়ে গেছে, যার যা খুশি সেখানে প্রচার করে বেড়ায়। আমরা মোটামুটি আশ্বস্ত যে, সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে সবকিছু হবে। পূজাও হবে, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারবো। মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে সরকার অত্যন্ত তৎপর দাবি করে আমির হোসেন আমু বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য নাফ নদে যে কতগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া ছিল, সেগুলো আপাতত একটু স্তিমিত। পরবর্তী সময়ে এখান দিয়ে যাতে আর মাদক আসতে না পারে সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। দরকার হলে ওখানে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে, সমুদ্রে যেগুলো চলাচল করে নৌকা বা ইঞ্জিন নৌকা সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে মাদক আসতে না পারে। মসজিদের ইমামরা জঙ্গিবাদ দিয়ে কথা বলছেন জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমরা অনুরোধ করব তারা যাতে জঙ্গিবাদের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলেন। সমাজে যাতে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি আসে সেজন্য আমরা তাদের সহায়তা চাইবো।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ