মার্কেল?

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০
অনুষ্ঠিত হয়েছে জার্মানির ২০১৭ পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন শুলজ। টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও নির্বাচনের আগে দুই অঙ্কে ফ্রন্টরানার হয়ে এগিয়ে ছিলেন অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। তিনি চতুর্থ দফায় চ্যান্সেলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেট পার্টি (সিডিইউ)। জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে এই দলটিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করার লড়াইয়ে এবং একই সঙ্গে নিজের পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ মার্কেল।
তার সিডিইউ জোটের অংশীদার সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) মার্টিন শুলজ তার সামনে বড় প্রতিপক্ষ। সপুটনিক নিউজের এক প্রতিবেদন অনুসারে শুলজ বলেছেন, তিনি জয়ী হলে নীশ্চিতভাবেই মার্কেলকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা বিকাল ৬টা পর্যন্ত চলার কথা। ভোটগ্রহণ শেষেই বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন মার্কেলই। জার্মানির স্থানীয় পত্রিকা ফ্যাংকফুর্টার আলজেমেইনি যেইতুংয়ের (ফায) এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মার্কেলকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে শুলজের দিকে সমর্থনের হার হচ্ছে ৩২ শতাংশ। বাকিরা অন্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি সপুটনিক নিউজ জার্মানির ফেডারেল রিটার্নিং অফিসারকে উদ্ধৃত করে বলেছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪১ শতাংশ। উল্লেখ্য, জার্মানিতে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ বৈধ ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হয়। নির্বাচনে দুটি করে ভোট দিতে হয়েছে এক একজন ভোটারকে। একটি ভোট হলো তাদের পার্লামেন্টারি আসনের প্রার্থীর জন্য। অন্য ভোটটি তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে বেশি পছন্দ করে তা নির্ধারণের জন্য। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়নি।  
 এবারের নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে। কারণ, একদিকে ব্রেক্সিট। অন্যদিকে সম্প্রতি বিশ্বের বড় বড় দেশে জাতীয়তাবাদের পক্ষে উত্থান। জার্মানি কোন দিকে যাবে সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। বলা হচ্ছে, জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে এবার ৬টি রাজনৈতিক দল স্থান করে নিতে পারে। এমনটা হলে তা হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে প্রথম এমন ঘটনা। আর তা হলে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারের গাঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে। এখানে উল্লেখ্য, অ্যাঙ্গেলা মার্কেলকে আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হয় স্থিতিশীলতার একজন শক্তিধর নারী হিসেবে। তিনি ২০০৫ সাল থেকে জার্মানির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি অভিবাসী বা শরণার্থীদের বিষয়ে কোমল হৃদয়ের। ইউরোপে যখন শরণার্থী সংকট তীব্র তখন তিনি জার্মানির সীমান্ত খুলে দেন। আশ্রয় দেন বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে। এজন্য তাকে রাজনৈতিকভাবে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকটি নির্বাচনে তার দলের পরাজয় ঘটেছে। এ জন্য জাতীয় নির্বাচনে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষতি দৃশ্যত তিনি কাটিয়ে উঠেছেন। ভোটের আগে জনমত জরিপে তিনি এগিয়ে ছিলেন দুই অঙ্কে। অন্যদিকে তার সামনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সোশাল পার্টির (এসপিডি) মার্টিন শুলজ। এ দলটি মধ্য-বামপন্থি। অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের জোট সরকারের অংশীদার তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে তিনি মার্কেলের নীতি, রাজনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ। তিনি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড় করে দিলেও রাজনীতিতে ১২ বছরের চ্যান্সেলর হিসেবে অভিজ্ঞ মারকেল। তিনি বিশ্ব দরবারে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে পরিচিত। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়, তিনি ক্ষমতায় থাকলে জার্মানিতে স্থিতিশীলতা থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অখণ্ডতায় তার অবদান অনেক। বৃটেন যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, সমঝোতা করছে তখন তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরো শক্ত করে বেঁধে রাখার চেষ্টা করছেন। ওদিকে এই নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি দল (এএফডি) ও পার্লামেন্টে আসন করে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই দলটি ইসলাম বিরোধী। এ যাবৎ পর্যন্ত এ দলটি দেশের শুধু আঞ্চলিক সরকারে আসন পেয়েছে। কিন্তু তারা অভিবাসন ইস্যুতে যে প্রচারণা চালায় তাতে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তারা অভিবাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। মার্কেল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে। ফলে তাদের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় এবার তারা বুন্দেসটাগে জায়গা করে নেবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Rubo

২০১৭-০৯-২৫ ০৫:১৫:০৩

Angela Market is an angel and a miracle. What she has done to Syrian refugees will down in history as one of the greatest act of kindness and leadership.

আপনার মতামত দিন

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ