শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসি’র ফরম পূরণ!

অনলাইন

চাঁদপুর প্রতিনিধি | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার, ৫:১৯
 টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়া করার শর্তে এসএসসি’র ফরম পূরণ করতে দেয়া হচ্ছে। এমনটাই ঘটেছে চাঁদপুর আল আমিন একাডেমি স্কুলে। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পুনরায় পরীক্ষা নিলেও ফল ঘোষণা না করে মাথা ন্যাড়া করার শর্তে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুধু পরীক্ষার ফরম পূরণ হয় এই আশায় মুখ ফুটে কেউ কিছু বলছেন না। ন্যাড়া করার ব্যাপারে মুখ খুললে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বহিস্কারের হুমকি।
অভিযুক্ত শিক্ষক পি এম এম জামাল হোসেন এমন নির্দেশ এর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজেরাই চুল কেটেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের রুমের সামনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভিড়। এসময় কয়েকজন অভিভাবককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারণ এ বিদ্যাপীঠের পড়া লেখার মান অনেক ভালো হওয়া সত্ত্বেও কেন শিক্ষার্থীরা ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে অকৃতকার্য হবে? এমনটাই প্রশ্ন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের।
জানা যায়, চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে আল আমিন একাডেমীতে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রায় চারশ শিক্ষার্থীর মধ্যে টেস্ট পরীক্ষায় ৯১জন কৃতকার্য হয়। বাকী প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। পরে তাদের অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা নিলেও ফলাফল ঘোষণা করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলাফল না ঘোষণা করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ আবুল বাসার নামের এক অভিভাবকের। এমন প্রচুর অভিযোগ রয়েছে প্রাইভেট না পড়াতে অনেক শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এমনকি ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশলও বলছেন কেউ কেউ। অপর দিকে ইংরেজি শিক্ষক জামাল স্যারের নির্দেশে ১৯ জন শিক্ষার্থী মাথা ন্যাড়া করতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এমন শর্ত দেয়ায় প্রধান শিক্ষক আব্বাসির সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু তিনি এ সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ও কার্যকর করার নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীরা বিষণœ মনে একপ্রকার চাপের মুখে বাধ্য হয় তাদের মাথা ন্যাড়া করতে। অনেক অভিভাবক হাসি মুখে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মেনে নিলেও হৃদয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। কারণ যদি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ না দেয়া হয় তবে জীবন থেকে চলে যাবে একবছর। এ চিন্তায় এমন অমানবিক শর্ত মেনে নেয় তারা। যদিও এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি দেয়ার আগেই জামাল স্যার ও অধ্যক্ষ শিক্ষার্থী অভিভাবকদের এক প্রকার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। যেন বিষয়টি কোনো গণমাধ্যম কর্মীকে না বলা হয়। যার প্রমাণ স্বরূপ কয়েকজন অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হয়েও পরে এ প্রতিবেদকের সাথে আর যোগাযোগ রক্ষা করেনি। তবে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী লজ্জায় মাথায় টুপি অথবা ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রেখেছে।
শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন, ফাহিম ও মাহিব হাসান বলেন, আমরা স্যারদের সকল শর্ত মানার পরেও হয়রানি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ৭ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরও ফরম পূরণ করা হয়েছে। অথচ ন্যাড়া করার ব্যাপারে যদি সাংবাদিকদের বলি তাহলেও স্কুল থেকে বহিস্কার করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ইংরেজি শিক্ষক পি এম এম জামাল হোসেনের নির্দেশে তারা ১৯ জন শিক্ষার্থী মাথা ন্যাড়া করতে বাধ্য হয়েছি।
ন্যাড়া করার ব্যাপারে শিক্ষক পি এম এম জামাল হোসেন বলেন, আমি এমন নির্দেশ দেইনি। তারা নিজেরাই চুল কেটেছে।
আল আমিন একাডেমির অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আবদুল গাফফার (ইনচার্জ) বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। আমি বিষয়টি দেখছি। আর কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না

মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রেসিডেন্টের শোক

সানি লিওন শাড়ি না পরলে গণ আত্মহত্যার হুমকি!

রাজধানীতে লাগেজে মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার

‘সাধারণ মানুষের রাজনীতি করতেন মহিউদ্দিন চৌধুরী’

মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবেও না বলেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী

সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে

বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ৩০ জন ভারতীয়

প্রেমিকের সঙ্গে দেখে ফেলায়...

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩